| বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ব্যালট বিপ্লবের ডাক মামুনুল হকের | নির্বাচন ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-02-2026 ইং
  • 7061866 বার পঠিত
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ব্যালট বিপ্লবের ডাক মামুনুল হকের | নির্বাচন ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: মামুনুল হক

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও শোষণের অবসান ঘটেনি, চাই ব্যালট বিপ্লব: মামুনুল হক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, শাসক বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি। এই অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ গঠিত হয়েছে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

১৯০০ থেকে ২০২৬: এক শতাব্দীর রাজনৈতিক সংগ্রাম

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় ছিল অধিকার আদায়ের। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তা ছিল বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন। কিন্তু মাওলানা মামুনুল হকের মতে, সেই স্বপ্ন আজও অধরা।

তিনি বলেন, "১৯০০ সাল থেকে এই জনপদ বারবার লড়াই করেছে। আগে বিদেশি শাসকরা এ দেশ লুট করত, আর গত ৫৪ বছর ধরে দেশীয় শাসকরা জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে। যারা বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে, তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।"

জুলাই বিপ্লব ও ব্যালট বিপ্লবের ডাক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আলিয়া-কওমি মাদ্রাসা এবং পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা সব বিভেদ ভুলে রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে। ১৫০০ শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই মাটির পবিত্রতা রক্ষা করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, "জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আমি যদি এই আসনের ভোটার হতাম, তবে শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলামকেই ভোট দিতাম। এটি আপনাদের পবিত্র আমানত।"

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ঘটনাবহুল এক দিন

আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত উত্তাল ও বৈচিত্র্যময়:

  • সকাল ১১:০০: সিরাজগঞ্জে হাসনাত আব্দুল্লাহর হুঁশিয়ারি—ভোট ডাকাতি করলে কেউ বাড়ি ফিরতে পারবেন না।

  • বিকেল ৪:১৮: কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান ও শাওনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর।

  • বিকেল ৫:০০: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীরের জাতির উদ্দেশে ভাষণ।

  • বিকেল ৫:৫৬: ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যানে চড়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনি প্রচারণা।

  • সন্ধ্যা ৭:০০: বিটিভিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিশেষ ভাষণ।

  • রাত ৮:২৩: নির্বাচন স্থগিতের গুজব ছড়ানোর দায়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সতর্কতা।

বিশ্লেষণ ও আগামীর রাষ্ট্র কাঠামো

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের এই শক্তিশালী অবস্থান প্রথাগত বড় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে ২০২৬ সালের এই সংস্কারমুখী সময় পর্যন্ত যে বিবর্তন ঘটেছে, সেখানে মাওলানা মামুনুল হকের এই ‘শোষণমুক্ত সমাজ’ ও ‘ইনসাফ কায়েমের’ ডাক ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাধারণ জনমহলে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১১ আসনের জোট প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সঞ্চালনা করেন নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন।


সূত্র: বাসস, এনসিপি মিডিয়া সেল, খেলাফত মজলিস প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং নির্বাচনী মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন ২০২৬।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
তাজা রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency